ঢাকা | সোমবার | ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার বড় দরপতন, প্লাটিনা কমল—প্যালাডিয়াম কিছুটা বেড়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও মূল্যবান ধাতুর দরপতন দেখা গেছে। কয়েকদিনের ধীরে ধীরে বেড়ে চলা’র পর শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং প্রযুক্তি নির্ভর শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে স্বর্ণ ও রূপার দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে নামল, বলেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,৭৩৫.৯৯ ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারে দাম ২.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্সে ৪,৭৫২.৪০ ডলার দাঁড়িয়েছে।

রুপার বাজারে পতন আরও তীব্র: দাম ৩.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬৮.৯৭ ডলারে নেমে গিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগের সেশনে রুপার দাম প্রায় ১৯ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পিছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বৈশ্বিক ইকুইটি সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সম্ভাব্য বড় ব্যয়ের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ার পর এমএসসিআইর বৈশ্বিক সূচক গত বৃহস্পতিবার এক শতাংশেরও বেশি নেমে গিয়েছিল। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারির চাহিদির বৃদ্ধি ও পণ্যের বাজারে ওঠানামাও রুপার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অন্য একটি বড় কারণ হচ্ছে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। মার্কিন ডলার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, ফলে ডলারে মূল্যায়িত ধাতুগুলো কাস্টমারের কাছে আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে এবং চাহিদা-দাবি ধীর হয়। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের মতো আন্তরিক বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বল নিয়োগ-সংক্রান্ত ডেটাও বাজারকে প্রভাবিত করেছে। কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে চাকরির সুযোগ প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার কমে গিয়েছিল, যা ২০২০’র পর সর্বনিম্নের কাছাকাছি। শ্রমবাজারের এই মন্দা পরিস্থিতি সাধারণত সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়ায়—বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভ কমপক্ষে দু’বার সুদের হার কাটতে পারে, যার প্রথমটা জুনে হতে পারে। তবে বর্তমানে ডলারের অতি-শক্তিশালী অবস্থাই সেই সম্ভাবনাকে আংশিকভাবে ঢেকে রেখেছে।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ছাপও ধাতু বাজারে পরিলক্ষিত হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় কূটনীতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সামরিক বিকল্পও খোলা রাখা হয়েছে—এই ধরনের অনিশ্চয়তা সাধারণত ধাতু বাজারে উঠানামার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যান্য ধাতুতে পরিবর্তন: স্পট প্লাটিনামের দাম ৩.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ১,৯১৬.৪৫ ডলার হয়েছে, যদিও গত ২৬ জানুয়ারি প্লাটিনা সর্বকালের সর্বোচ্চতে পৌঁছেছিল। ব্যতিক্রম হিসেবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রায় ১,৬৩৮.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মোটকথা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চলমান ডলার জোর বা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে—এটাই এখন অনুসরণ করার বিষয়।

আজকের খবর/ এমকে

এ বিভাগের আরও খবর