ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নিরাপদ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক ঢাকা-১৩: ববি হাজ্জাজের ৯ দফা ইশতেহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরে-বাংলা-নগর) থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ঘোষণা করেছেন ৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত আসনের সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন ঘোষণার অনুষ্ঠানে তিনি এই পরিকল্পনা উন্মোচন করেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘‘ঢাকা-১৩ এর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও দৈনন্দিন ভোগান্তির শিকার। এটি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়—একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্বের চুক্তি। জনগণের সঙ্গে, জনগণের জন্য আমাদের লক্ষ্য একটাই: নিরাপদ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক ঢাকা-১৩।’’

ববি হাজ্জাজের ৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার সংক্ষিপ্তভাবে:

১. নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা: কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান, কড়া নজরদারি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরে-বাংলা-নগরকে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য করা হবে।

২. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সেবা: ভোগান্তি কমানো ও কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিতাস ও ওয়াসার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়, সমস্যা-ভিত্তিক সার্ভিস ম্যাপ, জরুরি হটলাইন এবং স্থায়ী ফলোআপ ব্যবস্থা চালু রাখা হবে। স্থানীয় এমপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মাসিক ওপেন টাউনহলে সাধারণ মানুষের সমস্যার সরাসরি সমাধান খোঁজা হবে।

৩. রাস্তা ও ড্রেনেজ উন্নয়ন: ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে রাস্তা, ফুটপাত, কালভার্ট ও ড্রেনেজ সংস্কার করা হবে। জলাবদ্ধতা কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাসিক অগ্রগতি প্রকাশ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

৪. খাল ও লেকের পুনরুদ্ধার: খাল ও লেককে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। স্যুয়ারেজ ও বর্জ্যব্যবস্থাপনায় সংস্কার করে নিয়মিত ডেসিল্টিং ও ক্লিন-আপ অভিযান চালানো হবে এবং বিল্ডিং কোড ও বর্জ্য ফেলার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

৫. নারীর নিরাপত্তা: প্রতিটি রাস্তাই হবে নিরাপদ। আলোকসজ্জা, সিসিটিভি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ হোস্টেল সুবিধা এবং নারীবান্ধব পরিবহন নীতিমালা গ্রহণ করা হবে।

৬. যুবক্ষমতায়ন: মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অনটনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করে তরুণদের শিক্ষাগত ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

৭. বিহারি ক্যাম্প উন্নয়ন: মর্যাদাপূর্ণ ও মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে বাসস্থান, পানি-স্যানিটেশন, শিশুদের স্কুলিং এবং তরুণদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে।

৮. ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ: চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সহায়তা ডেস্ক ও দ্রুত অভিযোগ-ফলোআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করা হবে। অবৈধ জমি দখল, ফুটপাত ও পার্কিং দখল এবং খেলার মাঠ ও জনসাধারণের স্থান দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৯. কমিউনিটি রিলেশনস ২৪/৭: সমস্যা চিহ্নিত করে দৃশ্যমান সমাধান দেওয়া হবে। প্রতি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট দিনে ওপেন টাউনহল, মসজিদ-মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং ২৪/৭ ফোন ও ফিজিক্যাল হেল্পডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, সমাধান ও ফলোআপ নিশ্চিত করা হবে।

ববি হাজ্জাজের এই ইশতেহারকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন—পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-১৩ হবে নিরাপদ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক একটি আসন।

আজকালের খবর/বিএস

এ বিভাগের আরও খবর