বহু বছর ধরে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন প্রশাসনিক নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প — ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। আদেশে নির্দিষ্ট করে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে তা বলা হয়নি; তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আদেশের প্রভাব হবে এমন দেশগুলোর উপর যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে পণ্য বা পরিষেবা গ্রহণ করেছে — তাদের কাছ থেকে আমেরিকায় আসা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সহজভাবে বলা যায়, ইরানের সঙ্গে এখনও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি থাকা কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানি করার সময় অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্প আদেশের বিষয়ে সরাসরি বিস্তৃত মন্তব্য না করলেও শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বললেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অধিকার পাবে না।
এই পদক্ষেপ আসছে সেই সময়ে যখন ওমানের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার খবর চলছে। ট্রাম্প গত কয়েকদিনে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে এই বছরের শুরুতেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তিনি উল্লেখ করছিলেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনো দেশ আমেরিকার সঙ্গে করা সমস্ত ব্যবসায় ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান করবে। তবে তখনও কীভাবে তা বাস্তবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে বলা হয়েছে, এই নতুন নির্বাহী আদেশ ইরানের জন্য ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থা পুনরায় নিশ্চিত করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চাইলে আদেশ পরিবর্তন করতে পারেন। বিস্তৃত বিবরণে আদেশে ইরানকে জবাবদিহি করার কারণ হিসেবে পরমাণু সক্ষমতা অর্জন, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে — যেগুলো মার্কিন নিরাপত্তা, মিত্র ও স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করে।
এ ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
(আজকালের খবর/বিএস)




