ঢাকা | সোমবার | ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পাকিস্তান থেকে ট্রেনের বগি ও মালবাহী ওয়াগন কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ

জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের একযোগে কূটনৈতিক মেলবন্ধন বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এখন অনেক উষ্ণতর। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা হওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার পাকিস্তান থেকে ট্রেনের বগি এবং মালবাহী ওয়াগন কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ও লাহোরের মুঘলপুরায় অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছে। সেখানে তারা বগি, ওয়াগনসহ বিভিন্ন রেল যন্ত্রাংশের উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেছেন।

লাহোরভিত্তিক পাকিস্তান রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন। ওয়ার্কশপের প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি প্রতিনিধিদলকে পুরো কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রেলওয়ের চলমান প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করেন।

তাদেরকে ওয়ার্কশপের কাজকর্মের সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়। পরের পর্যায়ে প্রতিনিধি দলকে মুঘলপুরার লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জানান, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বর্ধমান সম্পর্ক ও সহযোগিতার প্রতিফলন। পাকিস্তান রেলওয়ের কর্মকর্তা খালিলি জানিয়েছেন, শিগগিরই বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাকিস্তান সফর করবে এবং সেখানে প্রযুক্তিগত বিশদ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান রেলওয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনা—এই চার দেশের ব্রডগেজ লাইনের জন্যও ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে, যা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

দ্য ডনকে দেয়া সাক্ষাতে খালিলি জানান, বাংলাদেশ ওয়াগন ও বগি কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গেও আলোচনা করছে; তবু ঢাকা পাকিস্তানের পণ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসিও বাংলাদেশ-পাকিস্তান রেলওয়ে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই সহযোগিতা উভয়ের জন্য লাভজনক হবে।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক পরিদর্শন ও আলোচনার পর আগামী সময়ে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দলের সফর পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিভাগের আরও খবর