ঢাকা | শনিবার | ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

৬ আরব দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্তবাণিজ্যচুক্তির পথে ভারত

বিশ্বজুড়ে শুল্কবাধা ও বাণিজ্যযুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত বাজার হিসেবে উঠে এসেছে।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) — সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন — এখন ভারতের বড় একটি একক বাণিজ্য অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিকভাবে এই ব্লকটি এমন ধাপে পৌঁছেছে যে এটি প্রচলিত বড় অংশীদারদের ওপরও.squeeze হতে দেখা গেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রত্নপাথর, ধাতু, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্য এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও স্থায়ী করতে ভারত বর্তমানে জিসিসির ছয় দেশকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জিসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পরিধি ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করার জন্য ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করেছেন।

মন্ত্রী জানান, এই চুক্তি কার্যকর হলে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করতে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আগেই ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের সঙ্গে পৃথকভাবে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাকস বলছেন, ভারতের উচিত কেবল মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভর না করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার মতো প্রতিবেশী ক্রমবর্ধমান বাজারগুলোর দিকেও বেশি নজর দেওয়া।

এই নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের জন্য জিসিসি বাজারে বড় ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে। বহু বছর ধরে স্থগিত থাকা এই আলোচনার পুনরায় সূচনা অর্থনীতি ও কূটনীতির দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

এ বিভাগের আরও খবর