ঢাকা | শনিবার | ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কর বাড়ানো না হলে পে-স্কেল বাস্তবায়নে ব্যাংকঋণের বোঝা বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সতর্ক করে বলেছেন, কর আদায় বাড়ানো ছাড়া নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের উপর ব্যাংকঋণের বোঝা আবারও বাড়বে এবং সেটি মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত করতে পারে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন এবং ওই সময় নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম রয়েছে। বাজেটে কাটছাঁট থাকলেও ব্যাংক খাত থেকে ঋণের হার বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারে সংশোধন আনা প্রয়োজন। “সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নানা চাপের সম্মুখীন হয়,” তিনি বলেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আর্থিক খাতে সংস্কারের কথা বলা হলে সেই প্রতিশ্রুতি রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক গঠনতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়েও তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সব শর্ত পূরণ করেছে। গত চার বছরে আইএমএফ যে ঋণ দেয়ার কথা ছিল তার তুলনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভে বেশি ডলার কিনে রেখেছে—যাতে আমরা অন্যের ওপর নির্ভর না রইয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে পারি।

রিজার্ভ বিষয়টিকে তুলে ধরে গভর্নর জানান, চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। গত এক বছরে বাজার থেকে ডলার কেনার কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) হারে কিছু ব্যাংক অতিরিক্ত তারল্য নিজেদের নিকট রাখার চাইতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এতে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের গতিশীলতা কমে যাচ্ছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুদ্রানীতি কাঠামোর ইন্টারেস্ট রেট করিডোরের নিম্নসীমা, অর্থাৎ স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হার ৮ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৭.৫০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা—স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি—বিদ্যমান শতকরা ১১.৫০ শতাংশে এবং ওভার নাইট রেপো নীতি সুদ হার শতকরা ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারকে আরও গতিশীল করে তোলা এবং সামগ্রিক তারল্য ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করা, যাতে ব্যাঙ্কিং খাত থেকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়তে পারে এবং অর্থনীতির সাধারণ গতিশীলতা বজায় থাকে।

(আজকালের খবর/বিএস)

এ বিভাগের আরও খবর